বায়তুল হিকমার পরিচয় এবং বায়তুল হিকমা সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নিন

খলিফা মামুন তার শাসনকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও অনুশীলনের জন্য বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন। অনেকেই এই বাইতুল হিকমা সম্পর্কে জানেন না। যদি আপনি বায়তুল হিকমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না জানেন তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্য। 


কারণ এই পোস্টে বায়তুল হিকমার পরিচয় এবং বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হবে। আশা করছি আপনারা পুরা পোস্ট করার মাধ্যমে বায়তুল হিকমার পরিচয় এবং বায়তুল হিকমা সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পারবেন। 


বায়তুল হিকমার পরিচয়
বায়তুল হিকমার পরিচয়


বায়তুল হিকমা সম্পর্কে সকল তথ্যঃ

আব্বাসীয় যুগে খলিফা মামুন এর শাসনকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা অনুশীলন গৌরবময় যোগ। খলিফা আল মামুন বায়তুল হিকমা নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। 


জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষাদীক্ষা কৃষ্টি ও সভ্যতার চরম উৎকর্ষ সাধন করে আব্বাসীয়রা স্বর্ণ যুগের সূচনা করেন এবং বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারক বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। এজন্য খলিফা আল মামুনের শাসনকালকে ইসলামের স্বর্ণযুগ বলা হয়। 


আরো পড়ুনঃ বায়তুল হিকমার কর্মকাণ্ড


বায়তুল হিকমার পরিচয়ঃ 

আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন ছিলেন একজন জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব। তিনি অনুধাবন করেছিলেন জ্ঞানবিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমেই মুসলমানগন বিশ্বের বুকে তাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে সক্ষম। ওই অনুধাবন থেকে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য 830 খ্রিস্টাব্দে বাগদাদ নগরীতে বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন। 


বায়তুল হিকমার বিভাগঃ 

বায়তুল হিকমার তিনটি বিভাগ ছিল। বায়তুল হিকমার বিভাগ তিনটি হচ্ছে - 


  • গ্রন্থাগার বিভাগ 

  • শিক্ষা বিভাগ ও 

  • অনুবাদ ব্যুরো বিভাগ 


গ্রন্থকার বিভাগঃ 

বায়তুল হিকমার তিনটি শাখার মধ্যে গ্রন্থকার শাখা অন্যতম। গ্রিক জ্ঞান ভান্ডার থেকে উপকরণ সংগ্রহের জন্য খলিফা মামুন ইবনে মাসাওয়া এবং হুনাইন ইবনে ইসহাকের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল ও সিসিলি থেকে গ্রিক ভাষায় লিখিত পান্ডুলিপি বায়তুল হিকমা নিয়ে আসেন। গ্রিক ভাষা ছাড়াও ফারসি, সংস্কৃতি, সিরীয় ইত্যাদি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদি তিনি দ্রুত দুত ও প্রতিনিধি মারফত সংগ্রহ করেন। 


শিক্ষা বিভাগঃ 

শিক্ষায়তন বায়তুল হিকমার আরেকটি বিভাগ। আল মামুন এর রাজত্বকালে বাগদাদ নগরী শিক্ষার নগরীতে পরিণত হয়েছিল। খলিফা আল মামুন এই সময়ে পারসিক, হিন্দু, খৃষ্টান, আরবীয় প্রভৃতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মনীষী শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বাগদাদে নিয়ে আসেন। এই সকল মনীষীর সান্নিধ্যে এসে মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষালাভ করার সুযোগ লাভ করে। 


অনুবাদ ব্যুরো বিভাগঃ 

বায়তুল হিকমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো অনুবাদ ব্যুরো বিভাগ। পৃথিবীর বিখ্যাত বিজ্ঞানী, দার্শনিক, গণিতবিদ ও চিকিৎসা শাস্ত্রবিদদের প্রণীত গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। 


খলিফা মামুন এর পৃষ্ঠপোষকতায় গ্যালেন, ইউক্সিড, টলেমি পিথাগোরাস প্রমুখ মনীষীর বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলী অনুবাদ করা হয়। এছাড়া বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক যেমন প্লেটো, এরিস্টটল প্রমুখ ব্যক্তিদের গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদ করে বায়তুল হিকমা নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে।  


উপসংহারঃ 

পরিশেষে বলা যায় যে আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা হলো উন্নত বিদ্যাপীঠ গুলোর অন্যতম। ঐতিহাসিক পি কে হিট্টি বলেছেন অনুবাদ ব্যুরো হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ছাড়াও বাইতুল হিকমাহ একটি পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 


এই সময়ের বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইবনে ইসহাক টলেমি, পল, গ্যালেন মুখ। সর্বোপরি বলা যায় যে বায়তুল হিকমার অবদান অনবদ্য ও গৌরবান্বিত। 


Share This Article On:

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url