মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির বর্ণনা কর । মৃত্যু কাহিনী লিখ

মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতি সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। এছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির বর্ণনা কর? এই প্রশ্ন থাকে। যদি আপনি মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু কাহিনী সম্পর্কে কি জান? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। 


কারণ এই পোস্টে মুহাম্মদ বিন কাসিম কিভাবে মৃত্যুবরণ করে? এই প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দেয়া হবে। আপনারা এই আর্টিকেল থেকে "মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু কাহিনী সম্পর্কে একটি টীকা লেখ" এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন। তাহলে এবার জেনে নিন বিস্তারিত- 


মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির বর্ণনা কর


মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির কারণ জানার গুরুত্বঃ 

মোহাম্মদ বিন কাশিম ছিলেন অনেক প্রতিভার অধিকারী। তিনি প্রতিভাবান সমরবিজয়ী ছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সিন্ধু অভিযান করে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেকেই তাকে ইতিহাসের একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে থাকেন। অনেক গুণাবলী থাকার পরেও তার মৃত্যু ছিল অনেক কষ্টের। অল্প বয়সে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মুসলমানদের ইতিহাস জানতে চাইলে আমাদেরকে অবশ্যই তার মৃত্যু সম্পর্কে জানতে হবে। 


এছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর কাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন আসে। যারা ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র তাদের ভারতীয় মুসলমানদের ইতিহাস সাবজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে - "মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির বর্ণনা কর? অথবা মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু কাহিনী সম্পর্কে কি জান? অথবা মুহাম্মদ বিন কাশেম কিভাবে মৃত্যুবরণ করে?" ইত্যাদি। নিম্নে এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো- 


প্রশ্নঃ মুহাম্মদ বিন কাসিমের করুন পরিণতির বর্ণনা কর?

উত্তর : ভূমিকাঃ ইসলামের ইতিহাসে একটি রোমাঞ্চকর ও বিব্রতকর কাহিনি হচ্ছে মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের মর্মান্তিক মৃত্যুকাহিনি। সিন্ধু বিজয়ী এই তরুণ বীরের মৃত্যু সম্পর্কে এক লোমহর্ষক কাহিনি শোনা যায়। কিন্তু এই কাহিনি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইসলাম তথা মুসলমানদের জন্য তার অকাল মৃত্যু ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।


মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু কাহিনিঃ জন্ম-মৃত্যু হচ্ছে প্রকৃতির শ্বাসত চিরন্তন নিয়ম। পৃথিবীতে অনেক সমরবিজয়ী মৃত্যুবরণ করলেও মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের মৃত্যুবরণের কাহিনি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিম্নে মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের মৃত্যু কাহিনি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :


মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু বিজয়ের পরে রাজা দাহিরের মৃত্যুর পর তার দুই কন্যা সুরুজ দেবী ও পরিমল দেবীকে খলিফা আল-ওয়ালিদের দরবারে প্রেরণ করেন। সেখানে তারা খলিফা আল-ওয়ালিদের নিকট মুহাম্মদ-বিন-কাসিম তাদেরকে দরবারে প্রেরণের পূর্বে সম্মানহানি করেছে বলে অভিযোগ করেন। 


তাদের ঐ অভিযোগ শুনে আল ওয়ালিদ খুবই রাগান্বিত হয়ে তিনি সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে লবণ মাখা চামড়ার মধ্যে আবদ্ধ করে রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দেন। তখন খলিফার আদেশ শুনে মুহাম্মদ বিন কাসিম নিজেই চামড়ার থলিতে ঢুকে পড়েন। 


এভাবে রাজধানীতে আসার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। অতঃপর তার মৃতদেহ খলিফার নিকট প্রেরণ করা হয়। খলিফার আদেশে দাহিরের কন্যাদের সামনে মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃতদেহ বের করা হলে পিতার হত্যাকারীর মৃত্যু দেখে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে।


পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা খলিফা ওয়ালিদের নিকট এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে। এ কথা প্রকাশ হওয়ায় খলিফা অনেক মর্মাহত হন এবং রেগে গিয়ে দাহিরের কন্যাদ্বয়কে ঘোড়ার লেজের সাথে বেঁধে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে টানতে আদেশ দেন। ইবনে হামিদের বর্ণনায় মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাওয়া যায়।


উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায় যে, সিন্ধু বিজয়ী বীর মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের এরূপ করুণ মৃত্যু সত্যিই বেদনাদায়ক ছিল। তবে তার এই মৃত্যুর কাহিনি ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন, বাল জুরি এবং আধুনিক ঐতিহাসিকগণ স্বীকার করেন না। ঐতিহাসিকদের মত অনুযায়ী সোলায়মান তাকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তবে ঘটনা যাই হোক, মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের মৃত্যু ছিল হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। তার মৃত্যু সংবাদে সিন্ধুবাসীরা অনেক ব্যাথিত হয়। 


মুহাম্মদ বিন কাসিম কিভাবে মৃত্যুবরণ করে পরিশেষে বলতে চাচ্ছিঃ

এই ছিলো মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু কাহিনী। আপনারা উপরে দেয়া তথ্য থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা মুহাম্মদ বিন কাসিম কিভাবে মৃত্যুবরণ করে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। যদি এই পোস্ট আপনাদের ভাল লাগে এবং কাজে আসে তাহলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। এছাড়াও যদি আপনাদের কোথাও বুঝতে সমস্যা হয় অথবা মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর কাহিনী সম্পর্কে বিস্তারিত আরো কিছু জানতে চান তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। তবে এরকম শিক্ষামূলক সকল নতুন পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক ও গুগল নিউজে ফলো করে পাশে থাকতে ভুলবেন না। 

Share This Article On:

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url