আইএমইআই নাম্বার কি? চেক করার উপায়, সুবিধা ও বিস্তারিত তথ্য

 বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যোগাযোগ, পড়াশোনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, ছবি তোলা, অনলাইন ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন কাজে আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। কিন্তু কখনো মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় নম্বর হলো IMEI Number।


অনেকেই মোবাইল ফোন কেনার সময় IMEI নম্বর দেখেন, কিন্তু এই নম্বরের কাজ কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানেন না। আবার অনেকে জানতে চান, IMEI নম্বর দিয়ে কি হারানো মোবাইল খুঁজে বের করা যায়? এই নম্বর ব্যবহার করে কি চুরি হওয়া মোবাইল ব্লক করা সম্ভব?


এই আর্টিকেলে আইএমইআই নাম্বার সম্পর্কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বসবাসকারী মোবাইল ব্যবহারকারীরা কীভাবে IMEI নম্বর চেক করবেন, ফোনের বৈধতা যাচাই করবেন, হারানো ফোন ব্লক করবেন এবং ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য কী পদক্ষেপ নেবেন, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।


Imei number


আইএমইআই (IMEI) নাম্বার কি?

IMEI-এর পূর্ণরূপ হলো International Mobile Equipment Identity। বাংলায় একে আন্তর্জাতিক মোবাইল যন্ত্রের পরিচয় নম্বর বলা যায়।


আইএমইআই হলো প্রতিটি মোবাইল ফোন বা সেলুলার ডিভাইসের জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র ১৫ সংখ্যার পরিচয় নম্বর। মোবাইল নেটওয়ার্কে একটি নির্দিষ্ট ডিভাইস শনাক্ত করার জন্য এই নম্বর ব্যবহার করা হয়।


সহজ ভাষায় বললে, মানুষের যেমন পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আলাদা পরিচয়পত্র বা নম্বর থাকে, তেমনি মোবাইল ফোন শনাক্ত করার জন্য IMEI নম্বর ব্যবহার করা হয়।


প্রতিটি মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর আলাদা হওয়ার কথা। তবে বাজারে কিছু নকল বা ক্লোন IMEI-যুক্ত ফোনও পাওয়া যায়। তাই শুধু IMEI নম্বর থাকলেই ফোনটি আসল বা বৈধ, এমনটি নিশ্চিত হওয়া যায় না।


একটি IMEI নম্বরের উদাহরণ:


`123456789012345`


এটি শুধু বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ, কোনো বাস্তব ফোনের IMEI নয়।


মনে রাখবেন, IMEI নম্বর এবং মোবাইল ফোনের সিরিয়াল নম্বর (Serial Number) এক জিনিস নয়। দুটোই ডিভাইস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের কাজ ও গঠন আলাদা।


IMEI নাম্বার কত ডিজিটের হয়?

সাধারণত একটি IMEI নম্বর ১৫ ডিজিটের হয়। প্রতিটি সংখ্যার নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।


IMEI নম্বরের প্রধান অংশগুলো হলো:


1\. TAC (Type Allocation Code): প্রথম ৮টি সংখ্যা। এটি ডিভাইসের মডেল বা টাইপ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।


2\. Serial Number: পরবর্তী ৬টি সংখ্যা। এটি নির্দিষ্ট ডিভাইসকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।


3\. Check Digit: শেষের ১টি সংখ্যা। এটি IMEI নম্বরের গাণিতিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।


অর্থাৎ, ৮ + ৬ + ১ = মোট ১৫ ডিজিট।


মোবাইলের IMEI নাম্বার কিভাবে বের করবেন?

মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর বের করার বেশ কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে। আপনার কাছে স্মার্টফোন থাকুক অথবা সাধারণ বাটন ফোন, দুই ক্ষেত্রেই IMEI নম্বর বের করা সম্ভব।


১. কোড ডায়াল করে IMEI নাম্বার বের করার নিয়ম


এটি IMEI নম্বর বের করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি।


1\. প্রথমে মোবাইল ফোনের Dial Pad খুলুন।


2\. সেখানে `*#06#` কোডটি লিখুন।


3\. কোডটি লেখার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে IMEI নম্বর প্রদর্শিত হবে।


4\. আপনার ফোনে দুটি সিম স্লট থাকলে সাধারণত IMEI 1 এবং IMEI 2 নামে দুটি নম্বর দেখতে পাবেন।


এই পদ্ধতিতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না।


২. মোবাইলের Settings থেকে IMEI নাম্বার বের করার নিয়ম

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস থেকেও সহজে IMEI নম্বর বের করা যায়।


1\. প্রথমে মোবাইলের Settings অপশনে প্রবেশ করুন।


2\. About Phone অথবা About Device অপশনে যান।


3\. সেখানে Status অথবা Device Information অপশন খুঁজুন।


4\. IMEI Information বা IMEI Number অপশনে প্রবেশ করুন।


5\. এখানে আপনার মোবাইলের IMEI নম্বর দেখতে পাবেন।


ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।


৩. মোবাইলের বক্স থেকে IMEI নাম্বার বের করার নিয়ম

নতুন মোবাইল ফোন কেনার সময় যে বক্স দেওয়া হয়, তার গায়ে সাধারণত একটি স্টিকার লাগানো থাকে। সেই স্টিকারে IMEI 1, IMEI 2, Serial Number এবং অন্যান্য তথ্য লেখা থাকতে পারে।


আপনার মোবাইলের বক্সটি থাকলে সেটির স্টিকার পরীক্ষা করুন। সেখানে ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর পেয়ে যাবেন।


৪. মোবাইলের ক্রয় রসিদ থেকে IMEI নাম্বার বের করা

অনেক দোকান মোবাইল বিক্রির সময় ক্রয় রসিদে IMEI নম্বর উল্লেখ করে। আপনি যে দোকান থেকে মোবাইল কিনেছেন, সেই দোকানের রসিদটি পরীক্ষা করুন।


ক্রয় রসিদে IMEI নম্বর থাকলে সেটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করুন।


### ৫. মোবাইলের SIM Tray থেকে IMEI নাম্বার বের করা


কিছু মোবাইল ফোনের SIM Tray বা সিম কার্ডের ট্রেতেও IMEI নম্বর লেখা থাকে। তবে সব ফোনে এই সুবিধা নেই।


ফোনের বক্স বা রসিদ হারিয়ে গেলে এবং ফোন চালু করা সম্ভব না হলে এই পদ্ধতিটি কাজে আসতে পারে।


৬. হারানো মোবাইলের IMEI নাম্বার কিভাবে বের করবেন?

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে অনেকেই মনে করেন IMEI নম্বর আর বের করা সম্ভব নয়। কিন্তু আগে থেকে সংরক্ষণ করা না থাকলেও কিছু উপায়ে এটি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।


Google Find Hub থেকে:


1\. অন্য একটি ডিভাইস থেকে Google Find Hub-এ প্রবেশ করুন।


2\. হারানো মোবাইলে ব্যবহৃত Google Account দিয়ে লগইন করুন।


3\. আপনার ডিভাইসটি নির্বাচন করুন।


4\. Device Settings বা ডিভাইসের তথ্য অপশনে IMEI-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


iPhone-এর ক্ষেত্রে:


Apple Account-এর ডিভাইস তথ্য, মূল বক্স অথবা ক্রয় রসিদে IMEI নম্বর পাওয়া যেতে পারে। আগে থেকে সংরক্ষিত থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।


অন্যান্য উপায়:


* মোবাইল কেনার রসিদ পরীক্ষা করুন।


* মোবাইলের মূল বক্স পরীক্ষা করুন।


* মোবাইল কেনার দোকানে যোগাযোগ করুন।


* প্রয়োজনে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


ডুয়াল সিম মোবাইলের IMEI নাম্বার কয়টি?

বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ স্মার্টফোন ডুয়াল সিম সুবিধাসম্পন্ন। অর্থাৎ একই মোবাইলে দুটি সিম ব্যবহার করা যায়।


এ ধরনের মোবাইলে সাধারণত দুটি আলাদা IMEI নম্বর থাকে।


* IMEI 1: প্রথম সিম স্লটের জন্য।


* IMEI 2: দ্বিতীয় সিম স্লটের জন্য।


অর্থাৎ, একটি মোবাইলে দুটি সিম ব্যবহার করা গেলেও সেটি একই IMEI নম্বর ব্যবহার করে না।


ফোন হারিয়ে গেলে বা ব্লক করার প্রয়োজন হলে উভয় IMEI নম্বর সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।


IMEI নাম্বার চেক করার নিয়ম

IMEI নম্বর বের করার পর সেটি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন বা পুরোনো মোবাইল ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর পরীক্ষা করা উচিত।


বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের IMEI এবং বৈধতা যাচাই করার জন্য BTRC-এর NEIR (National Equipment Identity Register) ব্যবস্থা রয়েছে।


বাংলাদেশে IMEI নাম্বার চেক করার নিয়ম (SMS)

এসএমএসের মাধ্যমে খুব সহজে মোবাইল ফোনের IMEI যাচাই করা যায়।


এজন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:


1\. প্রথমে মোবাইলের Message অপশনে প্রবেশ করুন।


2\. নতুন মেসেজ লেখার অপশন নির্বাচন করুন।


3\. লিখুন:


`KYD 123456789012345`


এখানে 123456789012345-এর পরিবর্তে আপনার মোবাইলের ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখবেন।


4\. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন `16002` নম্বরে।


5\. ফিরতি এসএমএসে আপনার মোবাইল ফোনের বৈধতা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে।


এই এসএমএস সেবাটি BTRC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী বিনামূল্যে দেওয়া হয়।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডুয়াল সিম মোবাইল হলে প্রতিটি IMEI নম্বর আলাদাভাবে যাচাই করুন।


NEIR ওয়েবসাইটের মাধ্যমে IMEI চেক করার নিয়ম

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই করার জন্য BTRC-এর অফিসিয়াল NEIR পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।


ওয়েবসাইট: [https://neir.btrc.gov.bd/](https://neir.btrc.gov.bd/?utm_source=chatgpt.com)


যেভাবে IMEI যাচাই করবেন:


1\. প্রথমে NEIR-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।


2\. IMEI Check বা Verification Status অপশনে যান।


3\. আপনার মোবাইলের IMEI নম্বরের প্রথম ১৪টি ডিজিট লিখুন।


4\. Check অপশনে ক্লিক করুন।


5\. এরপর মোবাইলের নিবন্ধন ও বৈধতাসংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারবেন।


এছাড়াও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থা যাচাই করতে `*16161#` শর্ট কোড ব্যবহার করা যায়।


IMEI চেক করার সময় কী কী তথ্য জানা যায়?

IMEI যাচাইয়ের মাধ্যমে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা যায়:


* মোবাইল ফোনটি BTRC-এর ডাটাবেজে রয়েছে কি না।


* ফোনটি বৈধভাবে আমদানি বা উৎপাদিত হয়েছে কি না।


* ফোনটি নিবন্ধিত কি না।


* ফোনটি হারানো বা চুরি যাওয়া হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে কি না।


* ফোনটি ব্ল্যাকলিস্টে রয়েছে কি না।


তবে কোন তথ্য কতটুকু পাওয়া যাবে, তা ব্যবহৃত যাচাই পদ্ধতি ও ডাটাবেজের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।


IMEI নাম্বারের সুবিধা ও ব্যবহার

IMEI নম্বর শুধু মোবাইল ফোন শনাক্ত করার জন্য নয়, আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। নিচে এর প্রধান সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো।


১. মোবাইল ফোন শনাক্ত করা

প্রতিটি মোবাইল ফোনকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে IMEI নম্বর ব্যবহার করা হয়। একই মডেলের হাজার হাজার ফোন থাকলেও প্রতিটি বৈধ ডিভাইসের IMEI আলাদা হওয়ার কথা।


২. হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ব্লক করা

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে IMEI নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসকে মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে ব্লক করার আবেদন করা যায়।


এর ফলে ব্লক করা ডিভাইসটি সাধারণত দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সিম ব্যবহার করে সংযুক্ত হতে পারে না।


৩. মোবাইলের বৈধতা যাচাই করা

নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর যাচাই করে জানা যায় সেটি BTRC-এর ডাটাবেজে বৈধ হিসেবে রয়েছে কি না।


এতে অবৈধ বা সন্দেহজনক হ্যান্ডসেট কেনার ঝুঁকি কমে।


৪. চুরি হওয়া মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করা

চুরি হওয়া ফোনের IMEI ব্লক করা হলে অন্য কেউ সেটিতে নতুন সিম ব্যবহার করে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ করতে পারবে না, যদি ব্লকটি সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক ও ডাটাবেজে কার্যকর হয়।


৫. ডিভাইসের তথ্য শনাক্ত করা

IMEI নম্বরের মাধ্যমে ডিভাইসের মডেল বা টাইপ শনাক্ত করার কাজে সহায়তা পাওয়া যায়।


৬. মোবাইল ফোন কেনাবেচার সময় নিরাপত্তা

পুরোনো বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর যাচাই করলে ফোনটি ব্ল্যাকলিস্টে আছে কি না বা নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না তা জানা যায়।


৭. মোবাইল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা

মোবাইল অপারেটররা IMEI ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ডিভাইস শনাক্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।


বাংলাদেশে NEIR কী এবং এর কাজ কী?

NEIR-এর পূর্ণরূপ হলো National Equipment Identity Register। বাংলায় একে জাতীয় সরঞ্জাম পরিচিতি নিবন্ধন ব্যবস্থা বলা হয়।


বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এই ব্যবস্থা পরিচালনা করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মোবাইল ফোনগুলোর IMEI নম্বরের তথ্য সংরক্ষণ, ডিভাইসের বৈধতা যাচাই এবং হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।


NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের IMEI নম্বরের অবস্থা যাচাই করা যায়। পাশাপাশি হারানো বা চুরি হওয়া ফোন ব্লক করার সুবিধাও রয়েছে।


NEIR-এর প্রধান কাজগুলো হলো:


* বৈধ ও অবৈধ মোবাইল ফোন শনাক্ত করা।


* মোবাইল ফোনের IMEI নম্বরের তথ্য সংরক্ষণ করা।


* চুরি হওয়া বা হারানো ফোনের IMEI ব্লক করা।


* ব্ল্যাকলিস্ট করা মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা।


* ক্লোন বা নকল IMEI শনাক্ত করতে সহায়তা করা।


* পুরোনো ও নতুন মোবাইল ফোনের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা।


NEIR-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: [https://neir.btrc.gov.bd/](https://neir.btrc.gov.bd/?utm_source=chatgpt.com)


IMEI নাম্বার দিয়ে মোবাইল ব্লক করার নিয়ম

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে IMEI নম্বর ব্যবহার করে ফোনটি ব্লক করার আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশে BTRC-এর NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়।


ফোন ব্লক করার মূল উদ্দেশ্য হলো অন্য কেউ যেন ফোনটিতে সিম ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে না পারে।


মোবাইল হারিয়ে গেলে প্রথমে যা করবেন

1\. প্রথমে নিজের মোবাইল নম্বরের সিমটি বন্ধ বা প্রতিস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


2\. হারানো ফোনের IMEI নম্বর সংগ্রহ করুন।


3\. নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে হারানো বা চুরির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন।


4\. ফোনের বক্স, ক্রয় রসিদ, IMEI নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন।


5\. এরপর NEIR পোর্টাল অথবা মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে Lost/Stolen Request জমা দিন।


NEIR ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোবাইল ব্লক করার নিয়ম

1\. প্রথমে [https://neir.btrc.gov.bd/](https://neir.btrc.gov.bd/?utm_source=chatgpt.com) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।


2\. Citizen Portal-এ প্রবেশ করুন।


3\. প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।


4\. হারানো বা চুরি হওয়া হ্যান্ডসেটের Lost/Stolen Request অপশন নির্বাচন করুন।


5\. প্রয়োজনীয় তথ্য এবং IMEI নম্বর প্রদান করুন।


6\. চাওয়া হলে GD বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিন।


7\. আবেদন জমা দিয়ে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করুন।


আবেদন যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া অনুযায়ী ডিভাইসটি ব্লক করা হতে পারে।


মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে IMEI ব্লক করার নিয়ম

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারলে মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকেও NEIR-সংক্রান্ত সহায়তা নিতে পারবেন।


এজন্য:


* সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১-এ যোগাযোগ করুন।


* নিকটস্থ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যান।


* হারানো ফোনের IMEI নম্বর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান।


* Lost/Stolen Request জমা দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা নিন।


এছাড়া BTRC-এর হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০-এ যোগাযোগ করে নির্দেশনা জানতে পারবেন।


গুরুত্বপূর্ণ: ফোন ব্লক করা হলে সাধারণত সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ করতে পারে না। তবে এতে ফোনের Wi-Fi, ক্যামেরা বা অন্যান্য অফলাইন সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয় না।


IMEI নাম্বার দিয়ে হারানো মোবাইল খুঁজে বের করার উপায়

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে অনেকেই IMEI নম্বর দিয়ে সরাসরি ফোনের অবস্থান বের করতে চান। এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার।


শুধু IMEI নম্বর দিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারী নিজে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হারানো ফোনের লাইভ লোকেশন দেখতে পারেন না।


IMEI মূলত ডিভাইস শনাক্ত করার নম্বর। মোবাইল অপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় এই নম্বর ব্যবহার করে তদন্তে সহায়তা নিতে পারে।


তবে নিজের হারানো ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য কয়েকটি কার্যকর উপায় রয়েছে।


১. Google Find Hub ব্যবহার করে হারানো Android ফোন খুঁজুন

আগে Android ফোনে Google Find My Device নামে পরিচিত সেবাটি বর্তমানে Find Hub নামে ব্যবহৃত হচ্ছে।


এই সেবার মাধ্যমে নিজের হারানো Android ফোনের অবস্থান দেখা, ফোনে শব্দ বাজানো, ফোন লক করা এবং প্রয়োজন হলে ডেটা মুছে ফেলার সুবিধা রয়েছে।


ব্যবহারের নিয়ম:


1\. অন্য কোনো মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে [https://android.com/find](https://android.com/find?utm_source=chatgpt.com) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।


2\. হারানো ফোনে ব্যবহৃত Google Account দিয়ে লগইন করুন।


3\. আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ডিভাইসগুলোর তালিকা থেকে হারানো ফোনটি নির্বাচন করুন।


4\. ফোনের সর্বশেষ বা বর্তমান অবস্থান পাওয়া গেলে ম্যাপে দেখতে পারবেন।


5\. প্রয়োজন অনুযায়ী Play Sound অথবা Mark as Lost অপশন ব্যবহার করুন।


এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য ফোনে Google Account যুক্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় Find Hub সেটিংস সক্রিয় থাকা দরকার। ফোন বন্ধ থাকলে বা নেটওয়ার্কে সংযুক্ত না থাকলে শুধু সর্বশেষ জানা অবস্থান পাওয়া যেতে পারে।


ওয়েবসাইট: [https://android.com/find](https://android.com/find?utm_source=chatgpt.com)


২. iPhone-এর জন্য Apple Find My ব্যবহার করুন

আপনার হারানো ফোনটি যদি iPhone হয়, তাহলে Apple-এর Find My সেবা ব্যবহার করতে পারেন।


নিয়ম:


1\. অন্য একটি Apple ডিভাইস থেকে Find My অ্যাপ খুলুন অথবা [https://www.icloud.com/find](https://www.icloud.com/find?utm_source=chatgpt.com) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।


2\. নিজের Apple Account দিয়ে লগইন করুন।


3\. Devices তালিকা থেকে হারানো iPhone নির্বাচন করুন।


4\. ফোনের অবস্থান পাওয়া গেলে ম্যাপে দেখতে পারবেন।


5\. প্রয়োজন হলে Lost Mode চালু করুন।


Lost Mode চালু করলে ফোনটি লক করা যায় এবং পর্দায় যোগাযোগের তথ্য প্রদর্শন করা যায়।


তবে হারানোর আগে Find My চালু না থাকলে এই সেবার মাধ্যমে ফোন খুঁজে পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।


৩. থানায় জিডি করে IMEI নম্বর জমা দিন

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন।


জিডি করার সময় নিচের তথ্যগুলো দেওয়া ভালো:


* মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড ও মডেল।


* ফোনের রং।


* IMEI 1 ও IMEI 2।


* মোবাইল নম্বর।


* ফোন হারানোর তারিখ ও স্থান।


* মোবাইল কেনার রসিদ বা বক্সের তথ্য, যদি থাকে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী IMEI নম্বর ব্যবহার করে তদন্ত করতে পারে।


৪. মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন

আপনার হারানো ফোনে যে সিম ব্যবহার করা হতো, সেই অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


প্রয়োজনে তারা সিম বন্ধ করা, নতুন সিম ইস্যু করা এবং NEIR-এ হারানো ফোনের রিপোর্ট বা ব্লক করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহায়তা করতে পারে।


মনে রাখবেন: IMEI দিয়ে ফোন শনাক্ত করা এবং GPS-এর মাধ্যমে ফোনের অবস্থান দেখা দুটি আলাদা বিষয়। কোনো অচেনা ওয়েবসাইটে IMEI নম্বর লিখে লাইভ লোকেশন পাওয়ার দাবি করা হলে সতর্ক থাকবেন।


IMEI ব্লক করলে কি মোবাইল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়?

না। IMEI ব্লক করলে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় না।


IMEI ব্লক করার ফলে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটি মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়া থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে সাধারণত ওই ফোনে সিম ব্যবহার করে কল করা, এসএমএস পাঠানো বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যায় না।


তবে ফোনের অন্যান্য সুবিধা চালু থাকতে পারে।


যেমন:


* Wi-Fi ব্যবহার করা।


* ক্যামেরা ব্যবহার করা।


* আগে সংরক্ষিত ছবি ও ভিডিও দেখা।


* অফলাইন অ্যাপ ব্যবহার করা।


* Wi-Fi-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা।


অর্থাৎ IMEI ব্লক মানে ফোনের নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ করা, ফোনের সব কার্যক্রম বন্ধ করা নয়।


IMEI ব্লক করা মোবাইল কি আবার চালু করা যায়?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্লক করা মোবাইল আবার আনব্লক করা সম্ভব।


ধরুন, আপনার মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল এবং আপনি NEIR-এর মাধ্যমে সেটি ব্লক করেছিলেন। পরে ফোনটি ফিরে পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা NEIR-এর নির্ধারিত পদ্ধতিতে Found/Unblocking Request জমা দিতে পারেন।


এজন্য:


1\. NEIR Citizen Portal-এ প্রবেশ করুন।


2\. Found/Unblocking Request অপশন নির্বাচন করুন।


3\. প্রয়োজনীয় IMEI ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করুন।


4\. প্রয়োজন হলে পরিচয় বা মালিকানার প্রমাণ জমা দিন।


5\. আবেদন জমা দিয়ে যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করুন।


এছাড়া মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকেও আনব্লক করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহায়তা নিতে পারবেন।


ফোনটি ফিরে পেলে ব্লক খোলার আগে নিজের মালিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করিয়ে নেবেন।


IMEI নাম্বার পরিবর্তন করা যায় কি?

IMEI নম্বর হলো মোবাইল ফোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় নম্বর। এটি পরিবর্তন বা পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত নয়।


অননুমোদিতভাবে IMEI পরিবর্তন করা অনেক দেশে আইনবিরুদ্ধ এবং এর ফলে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার ও বৈধতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে।


এছাড়া IMEI পরিবর্তন করলে ফোনের আসল পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। তাই কোনো ফোনের IMEI নষ্ট বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নিজে পরিবর্তনের চেষ্টা না করে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।


IMEI নাম্বার ক্লোন বা ডুপ্লিকেট হলে কী হয়?

কিছু অসাধু ব্যক্তি একটি ফোনের IMEI নম্বর অন্য ফোনে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এটিকে IMEI Cloning বলা হয়।


এর ফলে একই IMEI নম্বর একাধিক মোবাইল ফোনে পাওয়া যেতে পারে।


IMEI ক্লোন হলে যেসব সমস্যা হতে পারে:


* ফোনের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হয়।


* নেটওয়ার্কে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।


* একটি ফোনের সঙ্গে অন্য ফোনের তথ্য মিলে যেতে পারে।


* বৈধতা যাচাইয়ের সময় সন্দেহজনক তথ্য দেখা যেতে পারে।


* NEIR ব্যবস্থায় ফোনের নিবন্ধন বা ব্যবহার নিয়ে সমস্যা হতে পারে।


আপনার ফোনের IMEI নম্বরের সঙ্গে প্রদর্শিত ব্র্যান্ড বা মডেলের তথ্য না মিললে BTRC অথবা অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।


 নতুন বা পুরোনো মোবাইল কেনার আগে IMEI যাচাই কেন জরুরি?

বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন এবং ব্যবহৃত উভয় ধরনের মোবাইল কেনাবেচা হয়। তবে ফোন কেনার আগে IMEI যাচাই না করলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে পারেন।


তাই নতুন বা পুরোনো মোবাইল কেনার আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:


1\. মোবাইলের Settings এবং `*#06#` থেকে পাওয়া IMEI নম্বর মিলিয়ে নিন।


2\. মোবাইলের বক্সে থাকা IMEI নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।


3\. NEIR পোর্টাল অথবা নির্ধারিত এসএমএস পদ্ধতিতে IMEI যাচাই করুন।


4\. ফোনটি হারানো বা চুরি হওয়া হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে কি না যাচাই করুন।


5\. দোকান থেকে অবশ্যই ক্রয় রসিদ সংগ্রহ করুন।


6\. ব্যবহৃত ফোন কিনলে আগের মালিককে NEIR-এর De-registration প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলুন, যদি প্রযোজ্য হয়।


এভাবে সতর্কতা অবলম্বন করলে অবৈধ, ব্ল্যাকলিস্ট করা বা সমস্যাযুক্ত মোবাইল কেনার ঝুঁকি কমবে।


IMEI নাম্বার সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)


১. IMEI নাম্বার কী?

উত্তর: IMEI-এর পূর্ণরূপ International Mobile Equipment Identity। এটি মোবাইল ফোনের জন্য নির্ধারিত ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর, যা ডিভাইস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।


২. মোবাইলের IMEI নাম্বার কিভাবে বের করব?

উত্তর: মোবাইলের ডায়াল প্যাডে `*#06#` লিখলেই স্ক্রিনে IMEI নম্বর দেখা যাবে। এছাড়া Settings, About Phone এবং মোবাইলের বক্স থেকেও নম্বরটি পাওয়া যায়।


৩. IMEI নাম্বার কয় ডিজিটের হয়?

উত্তর: সাধারণত IMEI নম্বর ১৫ ডিজিটের হয়।


৪. একটি মোবাইলে কয়টি IMEI নাম্বার থাকে?

উত্তর: সিঙ্গেল সিম মোবাইলে সাধারণত একটি এবং ডুয়াল সিম মোবাইলে সাধারণত দুটি IMEI নম্বর থাকে।


৫. IMEI নাম্বার দিয়ে কি হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়া যায়?

উত্তর: শুধু IMEI নম্বর দিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারী সরাসরি ফোনের লাইভ লোকেশন দেখতে পারেন না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ও মোবাইল অপারেটর অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় IMEI ব্যবহার করে তদন্তে সহায়তা নিতে পারে। নিজের ফোন খুঁজতে Google Find Hub অথবা Apple Find My ব্যবহার করা যায়।


৬. IMEI নাম্বার দিয়ে কি মোবাইল ব্লক করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। বাংলাদেশে BTRC-এর NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইলের IMEI ব্লক করার আবেদন করা যায়।


৭. বাংলাদেশে IMEI নাম্বার চেক করার এসএমএস কোড কত?

উত্তর: মোবাইলের মেসেজ অপশনে `KYD 15 Digit IMEI` লিখে 16002 নম্বরে পাঠাতে হয়।


৮. IMEI ব্লক করলে কি মোবাইলের Wi-Fi বন্ধ হয়ে যায়?

উত্তর: না। IMEI ব্লক করলে সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ বন্ধ হয়। তবে Wi-Fi, ক্যামেরা এবং অফলাইন অ্যাপ ব্যবহার করা ..


৯. IMEI নাম্বার পরিবর্তন করা কি সম্ভব?

উত্তর: অননুমোদিতভাবে IMEI পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যা হতে পারে।


১০. মোবাইলের IMEI নাম্বার কি অন্য কাউকে দেওয়া নিরাপদ?

উত্তর: অপ্রয়োজনে নিজের IMEI নম্বর প্রকাশ্যে শেয়ার করা উচিত নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অপরিচিত ওয়েবসাইটে IMEI নম্বর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।


১১. IMEI নম্বর দিয়ে কি মোবাইলের মালিকের নাম জানা যায়?

উত্তর: সাধারণ ব্যবহারকারী শুধু IMEI নম্বর দিয়ে মোবাইলের মালিকের নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য জানতে পারেন না। এ ধরনের তথ্য সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ব্যবস্থার অধীনে থাকে।


১২. IMEI নম্বর না থাকলে কি মোবাইল ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগের জন্য IMEI গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ফোনে IMEI না দেখালে বা অস্বাভাবিক নম্বর দেখালে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করা উচিত।


১৩. IMEI নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর কি একই?

উত্তর: না। IMEI এবং Serial Number দুটি আলাদা পরিচয় নম্বর। IMEI মূলত মোবাইল নেটওয়ার্কে ডিভাইস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।


১৪. ব্যবহৃত মোবাইল কেনার আগে IMEI চেক করা কি জরুরি?

উত্তর: অবশ্যই। IMEI যাচাই করলে ফোনটি বৈধ কি না, ব্ল্যাকলিস্টে আছে কি না এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে কি না তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


১৫. মোবাইল হারিয়ে গেলে IMEI নম্বর কোথায় পাব?

উত্তর: মোবাইলের বক্স, ক্রয় রসিদ, Google Find Hub-এর ডিভাইস তথ্য অথবা আগে সংরক্ষণ করা তথ্য থেকে IMEI নম্বর সংগ্রহ করা যায়।


উপসংহার

IMEI নম্বর প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয় নম্বর। এটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন শনাক্ত করা, বৈধতা যাচাই করা এবং হারানো বা চুরি হওয়া ফোন ব্লক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায়।

তাই প্রত্যেক মোবাইল ব্যবহারকারীর উচিত নিজের ফোনের IMEI নম্বর জেনে রাখা এবং নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা। নতুন বা পুরোনো মোবাইল কেনার আগেও IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি।


বিশেষ করে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই এবং হারানো ফোন ব্লক করার জন্য BTRC-এর NEIR সেবা ব্যবহার করতে পারেন। আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আইএমইআই নাম্বার কী, কীভাবে বের করতে হয়, এর সুবিধা এবং হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

Share This Article On:

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url